মোবাইল সাংবাদিকতা ও বাংলাদেশ | Nasimul Ahsan
অক্টোবর ২৩, ২০১৯

মোবাইল সাংবাদিকতা ও বাংলাদেশ

 

মোজো !  শব্দটা শুনতে নতুন শোনালেও এটি বৈশ্বিক গণমাধ্যম চর্চার ধরন পাল্টে দিয়েছে পুরোপুরি। স্মার্টফোন বা ট্যাবলেট পিসির মতো ইলেকট্রনিকস প্রযুক্তি ব্যবহার করে সংবাদ সংগ্রহ, সম্পাদনা ও প্রচারের কাজ করাকেই আমরা মোবাইল সাংবাদিকতা বলছি।

মোবাইল প্রযুক্তি নির্ভর সাংবাদিকতার চর্চা একইসাথে নাগরিক সাংবাদিকতা ও প্রচলিত গণমাধ্যমের সাংবাদিকতার চর্চার জায়গায় বড়সড় পরিবর্তন নিয়ে এসেছে। এর মাধ্যমে একজন সাধারন নাগিরক বহনযোগ্য ইলেকট্রনিক যন্ত্র ব্যবহার করে এবং ইন্টারনেটের সহায়তায় সংবাদ তৈরি ও সম্পাদনা করে নিজের কমিউনিটিতে যেমন দ্রুত একটি ঘটনা বা সংবাদকে পৌঁছে দিতে পারেন, তেমনি একজন মূলধারার গণমাধ্যমকর্মী মোবাইল প্রযুক্তির সুবিধা নিয়ে মফস্বলে বসে সংবাদ ঘটনার সরাসরি সম্প্রচার, জরুরি ছবি ও ফুটেজ পাঠাতে পারছেন একদম কম খরচে।

মোজো শব্দটি ২০০৫ সাল থেকে ব্যবহৃত হচ্ছে। এটির শুরু করে পোর্ট মেয়ারস নিউজ প্রেস নামের একটি গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান।

সাধারণত স্মার্টফোন ব্যবহারকারীরা পছন্দের অ্যাপ দিয়ে ছবি বা ভিডিও তৈরি, সামাজিক যোগাযোগের সাইট ভিজিট করা অথবা ইন্টারনেটে দ্রুত বার্তা আদান-প্রদান ও কথা বলার কাজ করে থাকেন। এ ছাড়া স্মার্টফোনের সাহায্যে আজ গণমাধ্যমের সংবাদ জানার কাজ আগের চেয়ে অনেক সহজতর হয়েছে। পশ্চিমা বিশ্বের নামীদামি গণমাধ্যমের বার্তাকক্ষে সংবাদ পৌঁছে দিতে স্মার্টফোন নিয়মিত ব্যবহৃত হচ্ছে। এই যেমন বিবিসি তাদের প্রযুক্তিবিষয়ক অনুষ্ঠান ক্লিকসহ বেশ কয়েকটি টেলিভিশন অনুষ্ঠানের পুরোটাই ধারণ ও সম্পাদনার কাজ করেছে স্মার্টফোনের মাধ্যমে।

মোবাইল সাংবাদিক প্রচলিত গণমাধ্যমের কাজকে সহজ করে দিয়েছে। একজন সাধারন নাগরিককে সাংবাদিক হয়ে ওঠার সুযোগ করে দিয়েছে আমাদের স্মার্টফোন। আমরা অনেক ঘটনা দেখেছি, যেখানে সাধারন জনগন ছবি বা ভিডিও প্রকাশ করেছেন, আর তার পরপরই সেই বিষয়টি হয়ে উঠেছে টক অব দ্যা টাউন ! সাধারনত মোজো জার্নালিস্টরা তাদের স্মার্টফোন দিয়ে কোন ঘটনার ছবি বা ভিডিও ফুটেজ ধারন করে। এরপর ঘটনাটির বিবরণ লিখে সেটি যার যার নিজেদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে, ব্যাক্তিগত ব্লগে প্রকাশ করে থাকেন।

বাংলাদেশে মোবাইল সাংবাদিকতা দিনকে দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। অনেকেই মোবাইলে মাধ্যমে বিভিন্ন ঘটনা ধারন করে নিজেদের সোশ্যাল মিডিয়াসমূহে প্রকাশ করছে। গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান, বিশেষ করে টেলিভিশন মোবাইলের সবটুকু সুবিধা নেয়ার চেষ্টা করছে। প্রত্যন্ত অঞ্চলে কর্মরত অনেক টেলিভিশন সংবাদকর্মী ইদানিং বিভিন্ন ঘটনার ফুটেজ তাদের স্মার্টফোনে ধারন করেন। এমনকি অনেকক্ষেত্রে সরাসরি সম্প্রচার করার কাজটিও সাংবাদিকরা গ্রাম থেকে স্মার্টফোনের মাধ্যমে করতে শুরু করেছেন। এই চর্চা যেমন গণাম্যধম প্রতিষ্ঠানের খরচ কমিয়ে দিচ্ছে, তেমনি এটি প্রত্যন্ত অঞ্চলের সংবাদ সংগ্রহ ও প্রেরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

 

বাংলাদেশে যারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করছেন, তারা অনেকেই জেনে বা না জেনে এই মোবাইল সাংবাদিকতার চর্চা করছেন। ঘটনার ছবি বা ভিডিও তুলে সেগুলো নিজেদের ফেসবুকে প্রকাশ করছেন। আমাদের টেলিভিশন চ্যানেলগুলো নিজেদের প্রতিনিধিদের পাশাপাশি সাধারন নাগরিকদেরও মোবাইল সাংবাদিকতার মাধ্যমে বিভিন্ন ঘটনার সংবাদ, ছবি ও ভিডিও গ্রহনে আগ্রহী করে তুলতে পারেন। এটা করতে পারলে গণমাধ্যমে রিয়েল টাইমে আরও আরও সংবাদ ফুটেজ আসবে, যা সাংবাদিকতার চর্চাকে উন্নতির দিকে নিয়ে যাবে।

নাসিমূল আহসান

শিক্ষা উদ্যোক্তা ও ই-লার্নিং পরামর্শক । প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশে সহকারী প্রশিক্ষক ও এটুআই-পিআইবি ই-লার্নিং কার্যক্রমের সমন্বয়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি। এছাড়া ই-লার্নিং বিষয়ক কমিউনিটি প্লাটফর্ম ই-লার্নিং বাংলাদেশ এর প্রতিষ্ঠাতা। ডিজিটাল লিটারেসি, সাংবাদিকতা, শিক্ষাপ্রযুক্তি, পাটশিল্প প্রভৃতি আগ্রহের জায়গা।

সকল লেখা দেখুন

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published.

সাবস্ক্রাইব করুন

655 Shares
Copy link
Powered by Social Snap