প্রেস রিলিজ লিখবেন কীভাবে : পর্ব-২ । নাসিমূল আহসান
নভেম্বর ১৭, ২০১৯

প্রেস রিলিজ লিখবেন কীভাবে : পর্ব-২

সময় বদলেছে। প্রেস রিলিজ তৈরি ও বিতরণের ক্ষেত্রে এসেছে নানান পরিবর্তন। এই পরিবর্তনের মানচিত্রটি খুব সহজে, সাদামাঠা ভাবে বোঝার জন্য আজকের এ প্রবন্ধ। আমরা প্রবন্ধটি প্রেস রিলিজের ইতিহাসকে খুব সংক্ষিপ্তভাবে জানার চেষ্টা করবো।

ছবি : আইভি লি

প্রেস রিলিজের ইতিহাস

আমেরিকানদের হাতে পৃথিবীর অনেক কিছুর শুরু হয়েছে। প্রেস রিলিজও তার ব্যতিক্রম নয়। ১৯০৬ পৃথিবীর প্রথম আধুনিক প্রেস রিলিজটি লেখেন মার্কিন নাগরিক আইভি লি। তখন তিনি পেনসেলভ্যানিয়ার রেলওয়েতে কাজ করতেন। আটলান্টিক শহরে একটি ট্রেন লাইনচ্যুত হয়ে দূর্ঘটনার শিকার হয়, যে ঘটনায় প্রায় ৫০ জনের মৃত্য হয়।

ছবি : আউটব্রেন.কম

আইভি লে সে সময় পেনসেলভেনিয়া রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের একজন হিসেবে ঘটনাটি ধামাচাপা না দিয়ে বরং ঘটনাটির বিস্তারিত বর্ণনা দিয়ে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে দুঃখ প্রকাশ করে পৃথিবীর প্রথম প্রেস রিলিজটি লেখেন, এবং সেটি বিভিন্ন গণমাধ্যমে কর্মরত সাংবাদিকদের মাঝে প্রেরণ করেন। বলা হয়ে থাকে, জনসংযোগ পেশার জনক হিসেবে খ্যাত এ্যাডওয়ার্ড বার্নেস মূলত আইভি লি’র আইডিয়া ব্যবহার করেই জনসংযোগ পেশার তাত্বিক ও প্রায়োগিক অবস্থান সৃষ্টি করেন।

আইভি লি’র পরে গত প্রায় ১১২ বছর ধরে প্রেস রিলিজ জনসংযোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ টুলস হিসেবে নিজের যোগ্যতার প্রমান দিয়ে আসছে। সময়ের বিবর্তণে প্রেস রিলিজের কাঠামো ও বিতরণ পদ্ধতিতে এসেছে নানা পরবির্তন। আমরা যদি প্রেস রিলিজের বিতরণ ব্যবস্থার ইতিহাসের দিকে তাকাতে চাই, তাহলে দেখবো প্রেস রিলিজের একদম প্রথম দিকে সেটা কেবল কাগজে লিখে প্রেরণ করা হতো।


এরপর দীর্ঘদিন হাতে লেখার পাশাপাশি বৈদ্যুতিন মাধ্যম যেমন : ফ্যাক্সের মাধ্যমেও প্রেস রিলিজ প্রেরণ করা হয়েছে। ১৯২০ সালে আমেরিকার মিশিগানে প্রথম রেডিও অনুষ্ঠান প্রচারিত হয়।১৯৩০ এ আমরা প্রথম সংবাদ প্রচারিত হয় টেলিভিশনে। ১৯৪১ সালে প্রথম পেইড টেলিভিশন বিজ্ঞাপন দেখার অভিজ্ঞতা হয় আমাদের। ১৯৯৪ সালে ইয়াহু ও অলটাভিস্টার জন্ম সাধারনকে ইন্টারনেটে যুক্ত হওয়ার সুযোগ তৈরি করে।

এই সুদীর্ঘসময় টেক্সটনির্ভর প্রেস রিলিজ রাজত্ব করে আসলেও প্রথম মাল্টিমিডিয়া প্রেস রিলিজের জন্ম হয় । পৃথিবী বিখ্যাত চলচ্চিত্র পার্ল হারবারকে প্রোমোট করার জন্য বি-রোল, ফুটেজ, ছবির মাধ্যমে তৈরি হয় মাল্টিমিডিয়া প্রেস রিলিজের। ২০০৪ সালে ফেসবুকের আবির্ভাব ও দূর্দান্ত প্রতাব ও আধিপত্য জনসংযোগ ও প্রেস রিলিজের বিষয়গুলোকে আরও নানামাত্রায় পরিবর্তন করে ফেলেছে। এছাড়া চলমান শতকের তথ্য প্রযুক্তি নির্ভর কর্মকাঠামোতে প্রেস রিলিজের বিতরণ ও কাঠামোতগত  নানান পরিবর্তন ও এসেছে।

ছবি : লাইটিনিং প্রেস রিলিজ

আমরা এখন প্রেস রিলিজের সাবেকি যে পন্থা, হার্ড কপি প্রেরণ করা, সেটা তো করিই এর পাশাপাশি প্রেস রিলিজ বিতরণে তৈরি হয়েছে নানান পন্থা। আমরা যেমন ই-মেইল ব্যবহার করি, পাশাপাশি তেমনি সব প্রতিষ্ঠান তাদের নিজ নিজ ওয়েবসাইটে প্রেসরিলিজটি আপলোড করে রাখেন। সাধারন প্রেস রিলিজের বাইরে তৈরি করেন মাল্টিমিডিয়া প্রেসরিলিজ। এছাড়া  সোশ্যাল মিডিয়া তো আছেই। ‘সোশ্যাল মিডিয়া প্রেস রিলিজ’ নামে নতুন ধরণ ও কাঠামোর ব্যবহারও শুরু হয়েছে আমাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে।

প্রেস রিলিজের এতো পরিবর্তনের পরেই এটি বহাল তবিয়তে টিকে আছে। এবং কনটেন্ট মার্কেটিং ইন্ড্রাস্ট্রিতে নিজের শক্ত অবস্থান ধরে রেখেছে। কি সেই জাদু? আমরা পরের প্রবন্ধটিতে প্রেস রিলিজের গুরুত্বকে বোঝার চেষ্টা করবো। এবং একইসাথে এটি আমাদের পেশাগত জীবনে কিভাবে কাজে লাগতে পারে, সে বিষয়টি দেখবে। ততক্ষণ ভালো থাকুন। হ্যাপি লার্নিং 🙂

প্রেস রিলিজ লেখা বিষয়ক সিরিজের প্রথম পর্ব পড়তে এখানে ক্লিক করুন : 

নাসিমূল আহসান

শিক্ষা উদ্যোক্তা ও ই-লার্নিং পরামর্শক । প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশে সহকারী প্রশিক্ষক ও এটুআই-পিআইবি ই-লার্নিং কার্যক্রমের সমন্বয়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি। এছাড়া ই-লার্নিং বিষয়ক কমিউনিটি প্লাটফর্ম ই-লার্নিং বাংলাদেশ এর প্রতিষ্ঠাতা। ডিজিটাল লিটারেসি, সাংবাদিকতা, শিক্ষাপ্রযুক্তি, পাটশিল্প প্রভৃতি আগ্রহের জায়গা।

সকল লেখা দেখুন

১ টি মন্তব্য

Your email address will not be published.

সাবস্ক্রাইব করুন

181 Shares
Copy link
Powered by Social Snap