অনুসন্ধানী সাংবাদিক হতে চাইলে | Nasimul Ahsan
অক্টোবর ২৩, ২০১৯

অনুসন্ধানী সাংবাদিক হতে চাইলে

 

অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা হল সাংবাদিকতার বিশেষ এক ধরন। একজন অনুসন্ধানী সাংবাদিক সাধারনত কোন একটি বিষয়ে গভীরভাবে তদন্ত করে থাকেন। শক্তিমানদের বিরুদ্ধে লোকসাধারনের দাঁড়াবার জায়গাই হলো অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা। স্বচ্ছ ও জবাবদিহীতামূলক গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

একজন অনুসন্ধানী সাংবাদিককে অনেকগুলো গুনের অধিকারী হতে হয়। একজন অনুসন্ধানী প্রথমত অপরিসীম ধৈর্য্যশীল হতে হয়। অনেক সময় একটি অনুসন্ধানী সংবাদ তৈরি করতে অনেক সময় একজন সাংবাদিকের কয়েক বছর লেগে যায়। দীর্ঘ সময় একটি সংবাদের পেছনে লেগে থাকার ধৈর্য্যই একজন ইনভেসটিগেটিভ সাংবাদিকের মূল চালিকাশক্তি। এর পাশাপাশি একজন সাংবাদিককে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন তৈরি করতে হলে অনুসন্ধিৎসু মন থাকতে হবে। ঘটনার ভেতরে যাওয়া, যা সাদামাটা চোখে দেখা যাচ্ছে, সেটাকে সত্য না ভেবে ঘটনার ভেতরে গিয়ে সত্যিকার তথ্য খুঁজে বের করা।

অনুসন্ধানী সাংবাদিকতায় উদ্যোমটা ভীষণ জরুরি। যে ঘটনায় অনুসন্ধান জরুরি, সেটা বুঝে নিয়ে তথ্য সংগ্রহের কাজে নেমে পড়তে হবে। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, কেঁচো খুড়তে গিয়ে শাপ বেরিয়ে আসে। অনেক সময় ঝামেলা আসবে, মনে হবে কিছুই হচ্ছে না, কিন্তু সেসময় উদ্যোগ হারিয়ে ফেলা যাবে না। কাজ করে যেতে হবে।

এছাড়া একজন অনুসন্ধানী সাংবাদিককে যোগাযোগ দক্ষ হতে হবে। কাঙ্কিত তথ্য প্রাপ্তি নিশ্চিতে তিনি কিভাবে, কার কার সাথে যোগাযোগ করবেন, নিজের উদ্দেশ্য হাসিল করবেন, সে ব্যাপারে সাংবাদিককে অবশ্যই জানতে হবে। সংবাদ সূত্র ও উৎস ব্যবস্থাপনা তাকে হতে হবে সিদ্ধহস্ত। এর পাশাপশি অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা নিশ্চিতভাবেই সাহসের কাজ। জনস্বার্থ সংরক্ষনের জন্য অনেক সময়ই একজন অনুসন্ধানী সাংবাদিককে ক্ষমতাধর ব্যাক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে গিয়ে কাজ করতে হয়। এসব কাজে মৃত্যুঝুঁকি, শারীরিকভাবে লাঞ্চিত হওয়ারও ঝুঁকি থাকে। সত্য উদ্ধারের জন্য সাংবাদিককে লড়ে যাওয়ার মানুষিকতা তৈরি করতে হবে।

আপনি যে বিষয়ে অনুসন্ধান করবেন বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, সে বিষয়ে পর্যাপ্ত জানাশোনা থাকা জরুরি। কাজ শুরুর আগে পুরো বিষয়, ঘটনা নিয়ে আপনার গবেষণা করে নিতে হবে। একজন অনুসন্ধানী সাংবাদিককে অবশ্যই সৎ ও নৈতিকভাবে শক্তিশালী হতে হবে। লোভের কাছে নতজানু না হওয়া, অন্যায়ের সঙ্গে আপস না করা, পেশার প্রতি সৎ থাকা আর নিজের যোগ্যতা ধারাবাহিকভাবে বাড়িয়ে চলার মধ্যে দিয়েই তিনি একজন বড় সাংবাদিক হয়ে উঠবেন।

সবচেয়ে গুরুত্বপূণ হলো স্টোরিটেলিং। একটি ভালো প্রতিবেদন কিভাবে লিখতে হয়, সেটাকে কতোটা সুখপাঠ্য ও সহজবোধ্য করে পাঠকের কাছে পৌছানো যায়, তার জন্য নিয়মিত চর্চা করতে হবে। একজন অনুসন্ধানী সাংবাদিক দীর্ঘ সময়, অর্থ ব্যয় করে একটি সংবাদের জন্য তথ্য সংগ্রহ করে থাকেন। এই সংবাদটি সূচারুরুপে পাঠকের কাছে উপস্থাপন করতে পারাটাও একটি বড় যোগ্যতা।

নাসিমূল আহসান

শিক্ষা উদ্যোক্তা ও ই-লার্নিং পরামর্শক । প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশে সহকারী প্রশিক্ষক ও এটুআই-পিআইবি ই-লার্নিং কার্যক্রমের সমন্বয়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি। এছাড়া ই-লার্নিং বিষয়ক কমিউনিটি প্লাটফর্ম ই-লার্নিং বাংলাদেশ এর প্রতিষ্ঠাতা। ডিজিটাল লিটারেসি, সাংবাদিকতা, শিক্ষাপ্রযুক্তি, পাটশিল্প প্রভৃতি আগ্রহের জায়গা।

সকল লেখা দেখুন

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published.

সাবস্ক্রাইব করুন

0 Shares
Copy link
Powered by Social Snap